ঢাকা ০৮:০১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ১ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

২৮ অক্টোবর থেকে আন্দোলনের ‘মহাযাত্রা’: ফখরুল

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৩৪:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৩ ১৪৫ বার পড়া হয়েছে
NEWS396 অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আবার তারিখ ঘোষণা করে সেদিন থেকে সরকার পতনের ‘চূড়ান্ত আন্দোলন’ শুরুর কথা জানিয়েছে বিএনপি। আগামী ২৮ অক্টোবর ঢাকায় সমাবেশের ডাক দিয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সেদিন থেকে আন্দোলনের ‘মহাযাত্রা শুরু হবে।’ সরকার পতনের ‘এক দফা’ দাবিতে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি আয়োজনে বুধবার নয়াপল্টনে এক সমাবেশ থেকে এ কথা বলেন তিনি।

এই জমায়েতে নেতা-কর্মীদের ভিড় ফকিরাপুল থেকে শুরু করে কাকরাইল ছাড়িয়ে যায়। মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আগামী ২৮ তারিখ শনিবার আমরা ঢাকায় মহাসমাবেশ করব। এই মহাসমাবেশ থেকে আমাদের মহাযাত্রা শুরু হবে। ইনশাআল্লাহ তারপরে সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত আমরা আর থেমে থাকব না। অনেক বাধা আসবে… অনেক প্রতিবন্ধকতা আসবে। সমস্ত বাধা বিপত্তিকে অতিক্রম করে আমাদের জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য আমাদেরকে রুখে দাঁড়াতে হবে।’

বর্তমান সরকারের পদত্যাগ ও নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবি আদায়ে গত ১২ জুলাই ‘এক দফা’ আন্দোলনের ডাক দেয়। পরে অক্টোবরেই আন্দোলন ‘চূড়ান্ত পর্যায়ে’ নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছিলেন নেতারা। পরে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর দুর্গা পূজার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পূজা শেষে ‘চূড়ান্ত’ আন্দোলনে নামার কথা জানায় বিএনপি ও সমমনারা।

তত্ত্বাবধায়কের দাবিতে বিএনপির এটা দ্বিতীয় দফা আন্দোলন। ২০১১ সালে উচ্চ আদালত এই সরকার ব্যবস্থাকে অসাংবিধানিক ঘোষণার পর সংসদ নির্বাচিত সরকারের অধীনে ভোটের ব্যবস্থা ফেরায়। সেটি মেনে না নিয়ে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির দশম সংসদ নির্বাচনের আগে আন্দোলনে নামে বিএনপি ও তার জোট। শুরু হয় সহিংসতা। তবে ভোট ঠেকানো সম্ভব হয়নি।

২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে আবার আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিলেও শেষ পর্যন্ত ভোটে আসে এই জোট। সেই নির্বাচনে আগের রাতে ভোট হয়ে যাওয়ার অভিযোগ এনে আবার পুরনো দাবিতে ফিরে গেছে বিএনপি ও সমমনারা।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে এই ‘অশান্তি সৃষ্টিকারী, এই ‘সন্ত্রাসী’ আওয়ামী লীগের পতন ঘটাব ইনশাআল্লাহ।’ এ সময় তিনি শ্লোগান ধরে বলেন, “ফয়সালা হবে কোথায়?” নেতা-কর্মীরা সমস্বরে বলেন, ‘রাজপথে, রাজপথে।’

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক মো. আবদুস সালামের সভাপতিত্বে ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব মো. আমিনুল হক ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব লিটন মাহমুদের পরিচালনায় অন্যান্য নেতারা উপস্থিত আছেন। সরকারের পদত্যাগ, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও বেগম খালেদা জিয়ার স্থায়ী মুক্তির দাবিতে এই জনসমাবেশ শুরু হয়।

সমাবেশকে ঘিরে সকাল ১০টা থেকেই নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নয়াপল্টনে আসতে থাকেন। বেলা সাড়ে ১১টার মধ্যেই নয়াপল্টন, বিজয়নগর, ফকিরাপুল, শান্তিনগর, কাকরাইল এলাকা পূর্ণ হতে থাকে। সরকারের পদত্যাগ, তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা, খালেদা জিয়ার মুক্তি ইত্যাদি লেখা ব্যানার বহন করে দলীয় কর্মীরা রাস্তায় রাস্তায়, মোড়ে মোড়ে এমনকি এসব এলাকার আশপাশের অলিগলিতে মিছিল করেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

২৮ অক্টোবর থেকে আন্দোলনের ‘মহাযাত্রা’: ফখরুল

আপডেট সময় : ০১:৩৪:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৩

আবার তারিখ ঘোষণা করে সেদিন থেকে সরকার পতনের ‘চূড়ান্ত আন্দোলন’ শুরুর কথা জানিয়েছে বিএনপি। আগামী ২৮ অক্টোবর ঢাকায় সমাবেশের ডাক দিয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সেদিন থেকে আন্দোলনের ‘মহাযাত্রা শুরু হবে।’ সরকার পতনের ‘এক দফা’ দাবিতে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি আয়োজনে বুধবার নয়াপল্টনে এক সমাবেশ থেকে এ কথা বলেন তিনি।

এই জমায়েতে নেতা-কর্মীদের ভিড় ফকিরাপুল থেকে শুরু করে কাকরাইল ছাড়িয়ে যায়। মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আগামী ২৮ তারিখ শনিবার আমরা ঢাকায় মহাসমাবেশ করব। এই মহাসমাবেশ থেকে আমাদের মহাযাত্রা শুরু হবে। ইনশাআল্লাহ তারপরে সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত আমরা আর থেমে থাকব না। অনেক বাধা আসবে… অনেক প্রতিবন্ধকতা আসবে। সমস্ত বাধা বিপত্তিকে অতিক্রম করে আমাদের জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য আমাদেরকে রুখে দাঁড়াতে হবে।’

বর্তমান সরকারের পদত্যাগ ও নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবি আদায়ে গত ১২ জুলাই ‘এক দফা’ আন্দোলনের ডাক দেয়। পরে অক্টোবরেই আন্দোলন ‘চূড়ান্ত পর্যায়ে’ নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছিলেন নেতারা। পরে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর দুর্গা পূজার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পূজা শেষে ‘চূড়ান্ত’ আন্দোলনে নামার কথা জানায় বিএনপি ও সমমনারা।

তত্ত্বাবধায়কের দাবিতে বিএনপির এটা দ্বিতীয় দফা আন্দোলন। ২০১১ সালে উচ্চ আদালত এই সরকার ব্যবস্থাকে অসাংবিধানিক ঘোষণার পর সংসদ নির্বাচিত সরকারের অধীনে ভোটের ব্যবস্থা ফেরায়। সেটি মেনে না নিয়ে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির দশম সংসদ নির্বাচনের আগে আন্দোলনে নামে বিএনপি ও তার জোট। শুরু হয় সহিংসতা। তবে ভোট ঠেকানো সম্ভব হয়নি।

২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে আবার আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিলেও শেষ পর্যন্ত ভোটে আসে এই জোট। সেই নির্বাচনে আগের রাতে ভোট হয়ে যাওয়ার অভিযোগ এনে আবার পুরনো দাবিতে ফিরে গেছে বিএনপি ও সমমনারা।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে এই ‘অশান্তি সৃষ্টিকারী, এই ‘সন্ত্রাসী’ আওয়ামী লীগের পতন ঘটাব ইনশাআল্লাহ।’ এ সময় তিনি শ্লোগান ধরে বলেন, “ফয়সালা হবে কোথায়?” নেতা-কর্মীরা সমস্বরে বলেন, ‘রাজপথে, রাজপথে।’

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক মো. আবদুস সালামের সভাপতিত্বে ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব মো. আমিনুল হক ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব লিটন মাহমুদের পরিচালনায় অন্যান্য নেতারা উপস্থিত আছেন। সরকারের পদত্যাগ, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও বেগম খালেদা জিয়ার স্থায়ী মুক্তির দাবিতে এই জনসমাবেশ শুরু হয়।

সমাবেশকে ঘিরে সকাল ১০টা থেকেই নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নয়াপল্টনে আসতে থাকেন। বেলা সাড়ে ১১টার মধ্যেই নয়াপল্টন, বিজয়নগর, ফকিরাপুল, শান্তিনগর, কাকরাইল এলাকা পূর্ণ হতে থাকে। সরকারের পদত্যাগ, তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা, খালেদা জিয়ার মুক্তি ইত্যাদি লেখা ব্যানার বহন করে দলীয় কর্মীরা রাস্তায় রাস্তায়, মোড়ে মোড়ে এমনকি এসব এলাকার আশপাশের অলিগলিতে মিছিল করেছে।