ঢাকা ০৭:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

কুপ্রবৃত্তির বিরুদ্ধে জিহাদই মুমিনের শ্রেষ্ঠ জিহাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৫:৫২:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মার্চ ২০২৪ ৭১ বার পড়া হয়েছে
NEWS396 অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রোজা মানুষের নফস বা আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে আধ্যাত্মিক উৎকর্ষে উন্নত ও আলোকিত করে দেয়। সিয়ামের দ্বারা রোজাদার নিজের ব্যক্তিসত্তা বা নফসকে বিধৌত করে। ‘নফস’ শব্দের অর্থ এক কথায় প্রকাশ করা যায় না। প্রধানত মানুষের নিজস্বতা, ব্যক্তির সত্তা, আমিত্ব, প্রবৃত্তি প্রভৃতি অর্থেও নফস শব্দ ব্যবহৃত হয়।

আত্মশুদ্ধির রমজান মাসে সিয়াম-সাধনার মাধ্যমে ‘তাজিকায়ায়ে নফস’ সাধিত হয়। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই সাফল্য লাভ করবে, যে পবিত্রতা অর্জন করে এবং তার প্রতিপালকের নাম স্মরণ করে ও সালাত আদায় করে।’ (সূরা আল-আ’লা, আয়াত : ১৪-১৫)

ইলমে তাসাওউফে নফসকে অবস্থাভেদে ‘নফসে আম্মারা’, ‘নফসে লাওওয়ামা’, ‘নফসে মুতমাইন্না’, ‘নফসে মুলহিমা’ মোটামুটি এই চারটি ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। ১. ‘নফসে আম্মারা’ হচ্ছে প্ররোচক ও প্রলুব্ধকারী প্রবৃত্তি, এক কথায় বলা যায়, কুপ্রবৃত্তি।

এই নফস ব্যক্তিকে এমনভাবে বশীভূত করে যে, ব্যক্তির নিজের ওপর কোনো রকম নিয়ন্ত্রণ থাকে না, তার প্রবৃত্তি যা আদেশ করে, সে তাই সম্পাদন করে, এর ওপর শয়তানের প্রবল প্রভাব বিরাজমান থাকে। ফলে এই নফস ব্যক্তিসত্তাকে সব ধরনের অন্যায়, অপকর্ম ও মন্দ পথের দিকে ধাবিত করে। সোজা কথায় নফসে আম্মারায় আবেষ্টিত ব্যক্তিসত্তার মধ্যে এমন একটা মনোভাব থাকে যে, পাপ আবার কী? নফসে আম্মারাধারী ব্যক্তি মৃত্যুর পর যে পুনরুত্থিত হয়ে শেষ বিচারের মুখোমুখি হতে হবে, তা যেন সম্পূর্ণ বিস্মৃত হয়ে থাকে।

২. ‘নফসে লাওওয়ামা’ হচ্ছে সেই নফস, যার গুনাহের দিকে আকৃষ্ট হওয়ার প্রবণতা থাকলেও ভুল-ত্রুটি বা পাপকাজ করার পর আতঙ্কজনক জাগ্রত করে এবং মন্দকে ভর্ৎসনা করে। গুনাহ করে আত্মগ্লানির কারণে সে ব্যক্তি তওবা করে; কিন্তু তা দীর্ঘস্থায়ী হয় না; ফলে আবার গুনাহ করে, আবার তওবা করে। এই নফস কিঞ্চিৎ পবিত্র। এর ভালো-মন্দ বোধশক্তি থাকে। ৩. ‘নফসে মুতমাইন্না’ হচ্ছে সেই নফস, যার মধ্যে পবিত্রতার সুরভি আছে এবং নুরানি তেজ আছে। এটাই হচ্ছে আলোকিত নফস। এই নফস সব সময় নেককাজ ও কল্যাণের দিকে মানুষকে ধাবিত করে। মন্দ ও অকল্যাণ এই নফসের কাছঘেঁষা হতে পারে না। এটাই হচ্ছে প্রশান্ত এবং জাগতিক চাওয়া-পাওয়ার ঊর্ধ্বে এক অনন্য শান্ত প্রবৃত্তি। ৪. নফসে মুতমাইন্নায় উন্নীত নফস যখন পুণ্যে প্রেরণাদায়ক ও উদ্দীপনা সৃষ্টিকারী হয় তখন আল্লাহ তাআলার গোপন ভেদ ও আদেশ তার ওপর প্রতিফলিত হয়, সে ইলহাম বা প্রত্যাদেশ লাভে ধন্য হয়। এই নফসকেই বলা হয় ‘নফসে মুলহিমা’।

মাহে রমজানে মাসব্যাপী যাবতীয় কামাচার, পানাহার, পাপাচার থেকে বিরত থাকাই হচ্ছে সিয়াম সাধনা। রমজানের এক মাস সম্পূর্ণ দিবাভাগে এই বিরত থাকার নির্দেশ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে নফসকে পরিচ্ছন্ন করার সুবর্ণ সুযোগ আসে। নফসের কামনা-বাসনা থেকে নিজেকে নিবৃত্ত রেখে সিয়াম-সাধনার দ্বারা কুপ্রবৃত্তি দমনের মাধ্যমে রোজাদার তার জন্য চিরস্থায়ী ঠিকানা হিসেবে জান্নাত লাভের পথ উন্মুক্ত করে নেয়। এ সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর যে ব্যক্তি স্বীয় প্রতিপালকের সম্মুখে উপস্থিত হওয়ার ভয় রাখে এবং প্রবৃত্তি থেকে নিজেকে বিরত রাখে; জান্নাতই হবে তার আবাস।’ (সূরা আন-নাজিয়াত, আয়াত: ৪০-৪১)

পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘ইন্নান্নাফসা লা আম্মারাতু বিস্সুয়ে ইল্লামারাহিমা রাব্বী।’- ইহা নিঃসন্দেহ যে, নফস মানুষকে কুকাজের প্রতি নির্দেশ দিয়ে থাকে। কিন্তু যাকে আল্লাহপাক দয়া করেন, সেই রক্ষা পায়। (সূরা ইউসুফ ৫৩)

রোজার মাধ্যমেই কুকাজের নির্দেশদাতা এই নফসকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতেই জিহাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শরীয়তের পরিভাষায়, প্রকাশ্য শত্রু অর্থাৎ কাফের-মুশরিকদের বিরুদ্ধে মুসলমানদের যে সংগ্রাম ও লড়াই, এর নাম জিহাদে আজগর বা ছোট জেহাদ; আর মানুষের ভেতরকার নফসের বিরুদ্ধে রূহের যে জিহাদ, এর নাম জিহাদে আকবর বা সর্বশ্রেষ্ঠ জিহাদ। হযরত নবী করীম (সা.)-এর একটি হাদিসের আলোকেই এই নামকরণ করা হয়েছে।

সূরা আনকাবুতের শেষ আয়াতেও আল্লাহপাক এরশাদ করেছেন- ‘ওয়াল্লাজিনা জাহাদু ফিনা লানাহদীয়ান্নাহুম সুবুলানা।’ ‘যারা আমার জন্য জিহাদ করে আমি তাদের অবশ্যই আমার পথে পরিচালিত করব। নিশ্চয়ই আল্লাহ সৎ কর্মপরায়ণদের সঙ্গে আছেন।’ তাফসিরে কাদেরিতে এই আয়াতের তাফসির প্রসঙ্গে বলা হয়েছেÑ এখানে জাহেদু এর শব্দ মূল মোজাহেদা শব্দটি মুতলক (ব্যাপক অর্থবোধক) হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। যাতে জাহেরি ও বাতেনি উভয় প্রকার জিহাদ বুঝা যায়। ফলে এর অর্থ দাঁড়ায়, যে ব্যক্তি আমার রাস্তায় দ্বীনের দুশমনদের সঙ্গে এবং নফস ও কামনা বাসনার বিরুদ্ধে জিহাদ করে আমি তাদের আমার সঙ্গে মিলনের সহজ পথ দেখিয়ে দেই। হযরত আবদুল্লাহ তাশতারী (রহ.) বলেন, যে ব্যক্তি মুজাহেদা (আত্মিক সাধনার) দ্বারা নিজের বাইরের দিককে সুন্দর করে নেয়, আমি মুশাহেদার (সৃষ্টিরহস্য দেখানোর) মাধ্যমে তার বাতেন ও ভেতরের জগৎকে সাজিয়ে দেই।

হাদিস শরিফে নফসের সঙ্গে জিহাদকারীর পরিচয় প্রসঙ্গে এরশাদ হয়েছে, প্রকৃত মুজাহিদ ওই ব্যক্তি, যে নিজের নফসের সঙ্গে জিহাদ করে। নফসের বিরুদ্ধে সংগ্রাম ও সাধনাকে সর্বশ্রেষ্ঠ জিহাদ বলার আরও একটি তাৎপর্য হলো কাফের, মুশরিক, ও মুনাফিকদের বিরুদ্ধে মুসলমানদের পরিচালিত যুদ্ধ কোনো বিশেষ সময়েই সংঘটিত হয়। যখন ইসলাম ও মুসলমানদের ওপর শত্রুদের আঘাত আসে। যুদ্ধের জয়-পরাজয় নির্ধারিত হওয়ার পর সে জিহাদ বন্ধ থাকে। কিন্তু নফসের বিরুদ্ধে জিহাদ ও সংগ্রাম হরদম চালিয়ে যেতে হয়। জীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এই জিহাদের বিরাম নেই, শেষ নেই। এই হিসেবেও নফসের সঙ্গে জিহাদকে জিহাদে আকবর বা সর্বোত্তম জিহাদ বলার সার্থকতা উপলব্ধি করা যায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

কুপ্রবৃত্তির বিরুদ্ধে জিহাদই মুমিনের শ্রেষ্ঠ জিহাদ

আপডেট সময় : ০৫:৫২:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মার্চ ২০২৪

রোজা মানুষের নফস বা আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে আধ্যাত্মিক উৎকর্ষে উন্নত ও আলোকিত করে দেয়। সিয়ামের দ্বারা রোজাদার নিজের ব্যক্তিসত্তা বা নফসকে বিধৌত করে। ‘নফস’ শব্দের অর্থ এক কথায় প্রকাশ করা যায় না। প্রধানত মানুষের নিজস্বতা, ব্যক্তির সত্তা, আমিত্ব, প্রবৃত্তি প্রভৃতি অর্থেও নফস শব্দ ব্যবহৃত হয়।

আত্মশুদ্ধির রমজান মাসে সিয়াম-সাধনার মাধ্যমে ‘তাজিকায়ায়ে নফস’ সাধিত হয়। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই সাফল্য লাভ করবে, যে পবিত্রতা অর্জন করে এবং তার প্রতিপালকের নাম স্মরণ করে ও সালাত আদায় করে।’ (সূরা আল-আ’লা, আয়াত : ১৪-১৫)

ইলমে তাসাওউফে নফসকে অবস্থাভেদে ‘নফসে আম্মারা’, ‘নফসে লাওওয়ামা’, ‘নফসে মুতমাইন্না’, ‘নফসে মুলহিমা’ মোটামুটি এই চারটি ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। ১. ‘নফসে আম্মারা’ হচ্ছে প্ররোচক ও প্রলুব্ধকারী প্রবৃত্তি, এক কথায় বলা যায়, কুপ্রবৃত্তি।

এই নফস ব্যক্তিকে এমনভাবে বশীভূত করে যে, ব্যক্তির নিজের ওপর কোনো রকম নিয়ন্ত্রণ থাকে না, তার প্রবৃত্তি যা আদেশ করে, সে তাই সম্পাদন করে, এর ওপর শয়তানের প্রবল প্রভাব বিরাজমান থাকে। ফলে এই নফস ব্যক্তিসত্তাকে সব ধরনের অন্যায়, অপকর্ম ও মন্দ পথের দিকে ধাবিত করে। সোজা কথায় নফসে আম্মারায় আবেষ্টিত ব্যক্তিসত্তার মধ্যে এমন একটা মনোভাব থাকে যে, পাপ আবার কী? নফসে আম্মারাধারী ব্যক্তি মৃত্যুর পর যে পুনরুত্থিত হয়ে শেষ বিচারের মুখোমুখি হতে হবে, তা যেন সম্পূর্ণ বিস্মৃত হয়ে থাকে।

২. ‘নফসে লাওওয়ামা’ হচ্ছে সেই নফস, যার গুনাহের দিকে আকৃষ্ট হওয়ার প্রবণতা থাকলেও ভুল-ত্রুটি বা পাপকাজ করার পর আতঙ্কজনক জাগ্রত করে এবং মন্দকে ভর্ৎসনা করে। গুনাহ করে আত্মগ্লানির কারণে সে ব্যক্তি তওবা করে; কিন্তু তা দীর্ঘস্থায়ী হয় না; ফলে আবার গুনাহ করে, আবার তওবা করে। এই নফস কিঞ্চিৎ পবিত্র। এর ভালো-মন্দ বোধশক্তি থাকে। ৩. ‘নফসে মুতমাইন্না’ হচ্ছে সেই নফস, যার মধ্যে পবিত্রতার সুরভি আছে এবং নুরানি তেজ আছে। এটাই হচ্ছে আলোকিত নফস। এই নফস সব সময় নেককাজ ও কল্যাণের দিকে মানুষকে ধাবিত করে। মন্দ ও অকল্যাণ এই নফসের কাছঘেঁষা হতে পারে না। এটাই হচ্ছে প্রশান্ত এবং জাগতিক চাওয়া-পাওয়ার ঊর্ধ্বে এক অনন্য শান্ত প্রবৃত্তি। ৪. নফসে মুতমাইন্নায় উন্নীত নফস যখন পুণ্যে প্রেরণাদায়ক ও উদ্দীপনা সৃষ্টিকারী হয় তখন আল্লাহ তাআলার গোপন ভেদ ও আদেশ তার ওপর প্রতিফলিত হয়, সে ইলহাম বা প্রত্যাদেশ লাভে ধন্য হয়। এই নফসকেই বলা হয় ‘নফসে মুলহিমা’।

মাহে রমজানে মাসব্যাপী যাবতীয় কামাচার, পানাহার, পাপাচার থেকে বিরত থাকাই হচ্ছে সিয়াম সাধনা। রমজানের এক মাস সম্পূর্ণ দিবাভাগে এই বিরত থাকার নির্দেশ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে নফসকে পরিচ্ছন্ন করার সুবর্ণ সুযোগ আসে। নফসের কামনা-বাসনা থেকে নিজেকে নিবৃত্ত রেখে সিয়াম-সাধনার দ্বারা কুপ্রবৃত্তি দমনের মাধ্যমে রোজাদার তার জন্য চিরস্থায়ী ঠিকানা হিসেবে জান্নাত লাভের পথ উন্মুক্ত করে নেয়। এ সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর যে ব্যক্তি স্বীয় প্রতিপালকের সম্মুখে উপস্থিত হওয়ার ভয় রাখে এবং প্রবৃত্তি থেকে নিজেকে বিরত রাখে; জান্নাতই হবে তার আবাস।’ (সূরা আন-নাজিয়াত, আয়াত: ৪০-৪১)

পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘ইন্নান্নাফসা লা আম্মারাতু বিস্সুয়ে ইল্লামারাহিমা রাব্বী।’- ইহা নিঃসন্দেহ যে, নফস মানুষকে কুকাজের প্রতি নির্দেশ দিয়ে থাকে। কিন্তু যাকে আল্লাহপাক দয়া করেন, সেই রক্ষা পায়। (সূরা ইউসুফ ৫৩)

রোজার মাধ্যমেই কুকাজের নির্দেশদাতা এই নফসকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতেই জিহাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শরীয়তের পরিভাষায়, প্রকাশ্য শত্রু অর্থাৎ কাফের-মুশরিকদের বিরুদ্ধে মুসলমানদের যে সংগ্রাম ও লড়াই, এর নাম জিহাদে আজগর বা ছোট জেহাদ; আর মানুষের ভেতরকার নফসের বিরুদ্ধে রূহের যে জিহাদ, এর নাম জিহাদে আকবর বা সর্বশ্রেষ্ঠ জিহাদ। হযরত নবী করীম (সা.)-এর একটি হাদিসের আলোকেই এই নামকরণ করা হয়েছে।

সূরা আনকাবুতের শেষ আয়াতেও আল্লাহপাক এরশাদ করেছেন- ‘ওয়াল্লাজিনা জাহাদু ফিনা লানাহদীয়ান্নাহুম সুবুলানা।’ ‘যারা আমার জন্য জিহাদ করে আমি তাদের অবশ্যই আমার পথে পরিচালিত করব। নিশ্চয়ই আল্লাহ সৎ কর্মপরায়ণদের সঙ্গে আছেন।’ তাফসিরে কাদেরিতে এই আয়াতের তাফসির প্রসঙ্গে বলা হয়েছেÑ এখানে জাহেদু এর শব্দ মূল মোজাহেদা শব্দটি মুতলক (ব্যাপক অর্থবোধক) হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। যাতে জাহেরি ও বাতেনি উভয় প্রকার জিহাদ বুঝা যায়। ফলে এর অর্থ দাঁড়ায়, যে ব্যক্তি আমার রাস্তায় দ্বীনের দুশমনদের সঙ্গে এবং নফস ও কামনা বাসনার বিরুদ্ধে জিহাদ করে আমি তাদের আমার সঙ্গে মিলনের সহজ পথ দেখিয়ে দেই। হযরত আবদুল্লাহ তাশতারী (রহ.) বলেন, যে ব্যক্তি মুজাহেদা (আত্মিক সাধনার) দ্বারা নিজের বাইরের দিককে সুন্দর করে নেয়, আমি মুশাহেদার (সৃষ্টিরহস্য দেখানোর) মাধ্যমে তার বাতেন ও ভেতরের জগৎকে সাজিয়ে দেই।

হাদিস শরিফে নফসের সঙ্গে জিহাদকারীর পরিচয় প্রসঙ্গে এরশাদ হয়েছে, প্রকৃত মুজাহিদ ওই ব্যক্তি, যে নিজের নফসের সঙ্গে জিহাদ করে। নফসের বিরুদ্ধে সংগ্রাম ও সাধনাকে সর্বশ্রেষ্ঠ জিহাদ বলার আরও একটি তাৎপর্য হলো কাফের, মুশরিক, ও মুনাফিকদের বিরুদ্ধে মুসলমানদের পরিচালিত যুদ্ধ কোনো বিশেষ সময়েই সংঘটিত হয়। যখন ইসলাম ও মুসলমানদের ওপর শত্রুদের আঘাত আসে। যুদ্ধের জয়-পরাজয় নির্ধারিত হওয়ার পর সে জিহাদ বন্ধ থাকে। কিন্তু নফসের বিরুদ্ধে জিহাদ ও সংগ্রাম হরদম চালিয়ে যেতে হয়। জীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এই জিহাদের বিরাম নেই, শেষ নেই। এই হিসেবেও নফসের সঙ্গে জিহাদকে জিহাদে আকবর বা সর্বোত্তম জিহাদ বলার সার্থকতা উপলব্ধি করা যায়।